বিগত সরকারের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানের জন্য বড় বোঝা: অর্থমন্ত্রী

বিগত সরকারের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানের জন্য বড় বোঝা: অর্থমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বিগত সরকারের আমলে নেওয়া ১,৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পকে বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ‘বোঝা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রকল্পগুলো নিয়ে বর্তমান সরকার উভয়সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এগুলো এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) করা হচ্ছে। সরকার বর্তমানে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা মৃৎশিল্প, শীতলপাটিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাতের কারিগরদের এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পণ্যগুলোর আধুনিক বিপণন ও গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে বাজারমূল্য কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। কারিগরদের আয় বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি জাতীয় জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, লোকসংগীত, চলচ্চিত্র ও সামগ্রিক সংস্কৃতি খাতকে মনিটাইজ বা আয়ের উৎসে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে সংস্কার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত এই কারণেই নতুন বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আর্থিক খাতের সুশাসন ও সংস্কার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই খাত পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ