জাতীয় ডেস্ক
দেশের বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৫ শতাংশ বিশেষ কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই কোটার আওতায় চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নে এই বিষয়ে জানতে চান সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, দেশে বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজগুলোতে চিকিৎসা শিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর ফলে অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র মেধাবীদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক ব্যয়ভার কমানোর জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষার সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সুচিকিৎসা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
লিখিত উত্তরে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চতর চিকিৎসাক্ষা যেন কেবল বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্যই ৫ শতাংশ কোটা নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনেই চলতি বছর ৩৯৪ জন দরিদ্র অথচ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানরাও চিকিৎসা খাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ৫ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা চালু রাখা এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা একটি ইতিবাচক দিক। তবে এই কোটার সঠিক বণ্টন এবং মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় যেন একটি যৌক্তিক সীমার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা তৈরি ও তার কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


