প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাইলফলক: জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাইলফলক: জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর উপলক্ষে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে অত্যন্ত সুসংহত করেছে। একই সাথে এটি মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে।

সফরের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক অর্জনের বিবরণ তুলে ধরে মন্ত্রী সংসদকে জানান, এই সফরকালে বিশেষ করে চীনের সাথে ১৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি ও সমঝোতাগুলো আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সমঝোতা স্মারকগুলোর পাশাপাশি উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান সংকট রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া এবং চীন—উভয় দেশই বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই দুই রাষ্ট্রের ইতিবাচক মনোভাব এ সংকটের টেকসই সমাধানে বর্তমান সরকারের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সংসদে বক্তব্যকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের একটি দিকও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার এই গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরের আগে বা পরে জনসমাগমনির্ভর ও ব্যয়বহুল প্রথাগত সংবর্ধনা সংস্কৃতির পথে হাঁটেননি। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই ধরনের সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব রাজনৈতিক চর্চা পরিহারের মাধ্যমে তিনি একটি আধুনিক ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারের এই সংযত পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

পরিশেষে, দ্বিপাক্ষিক এই সফরের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত সমঝোতা, চুক্তি এবং সিদ্ধান্তগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। একই সাথে বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম হওয়া, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ