অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর কামরাঙ্গীচর ও হাজারীবাগ এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় গলায় ফাঁস লেগে এক শিশু ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন—কামরাঙ্গীচরের মো. রিহাদ (১১) এবং হাজারীবাগের গণকটুলি এলাকার সাগর (২১)। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে এবং আজ রবিবার ভোরে এই ঘটনা দুটি ঘটে। উভয়কেই মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে কামরাঙ্গীচরের বড়গ্রাম এলাকায়। শনিবার রাতে সেখানে নিজ বাসার বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগা অবস্থায় শিশু রিহাদকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন।
মৃত শিশুর মা হাসি বেগম জানান, ঘটনাটি অসাবধানতাবশত ঘটেছে। খেলার ছলে বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে রশি পেঁচাতে গিয়ে কোনোভাবে শিশুটির গলায় ফাঁস লেগে যায়। এটি কোনো আত্মহত্যা বা পরিকল্পিত ঘটনা নয় বলে দাবি পরিবারের। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে ও পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি হস্তান্তর করা হয় এবং স্বজনরা তা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
এদিকে, রাজধানীর হাজারীবাগের গণকটুলি এলাকায় আজ রবিবার ভোরে অপর একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ বছর বয়সী যুবক সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রবিবার ভোরে তিনি তার মা হামিদা বেগমের কাছে মাদকের টাকা দাবি করেন। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সাগরকে ঝুলতে দেখেন।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সকালের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত সাগর স্থানীয় হালিম মিয়া ও হামিদা বেগমের ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের টাকা না পেয়ে ক্ষোভ ও মানসিক সুস্থিতি হারিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কামরাঙ্গীচর ও হাজারীবাগ থেকে আসা পৃথক দুটি মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে ঘটনা দুটি অবহিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রাজধানীতে পারিবারিক অসচেতনতা ও মাদকের সহজলভ্যতা যুবসমাজের পাশাপাশি শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। খেলার ছলে শিশুদের দুর্ঘটনা এড়াতে যেমন অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, তেমনি যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সামাজিক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।


