আরব সাগরে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ, নিখোঁজ এক ক্রু

আরব সাগরে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ, নিখোঁজ এক ক্রু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে। এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বুধবার মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও তৎসংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ’-এ কর্তব্যরত ছিল ‘সি হক’ মডেলের এই হেলিকপ্টারটি। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের পর আরব সাগরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই জরুরি অবতরণের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা বা বৈরী আচরণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। এটিকে একটি যান্ত্রিক বা পরিচালনাগত দুর্ঘটনা হিসেবেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পরপরই রণতরী ও নৌবাহিনীর জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। তারা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে হেলিকপ্টারটিতে থাকা চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ক্রুদের তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা শঙ্কামুক্ত আছেন বলে সামরিক চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ক্রু সদস্যের জীবন রক্ষার্থে আরব সাগরের ওই নির্দিষ্ট জলসীমায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওই এলাকায় নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত ডুবুরি দল যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা (এসএআর) চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ক্রুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণের এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতা নাকি পাইলটের পরিচালনাগত কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। মার্কিন নৌবাহিনীর নীতিমালার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ এবং প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা অনুমিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও সামরিক কৌশলের দিক থেকে আরব সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। এই জলসীমায় বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট অবস্থিত হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী এখানে নিয়মিত টহল ও মহড়া পরিচালনা করে থাকে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একটি আধুনিক সামরিক হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনা মার্কিন নৌবাহিনীর পরিচালন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে নতুন করে পর্যালোচনার মুখে দাঁড় করাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নিখোঁজ ক্রুর ভাগ্য এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অনেকাংশে নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ