রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষ্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কালক্ষেপণ করা সমীচীন হবে না।
রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, চব্বিশের এই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। প্রায় ৫০০ মানুষ চোখের আলো হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এই ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করতে হলে সরকারের উচিত জুলাই সনদ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়, তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অতীতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে চরমোনাই পীর বলেন, আমরা বারবার যে ইতিহাস রচনা করি, তার সুফল পেতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দেওয়া অপরিহার্য। তিনি রূপক অর্থে মন্তব্য করেন, ‘শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা রাখা যেমন নিরাপদ নয়, তেমনি বারবার ভুল মানুষের হাতে দেশ ও জনগণের ভাগ্য তুলে দেওয়া হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনগুলোতে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অধীনে দেশ, মানুষ এবং ইসলাম নিরাপদ ছিল না বলেই মানুষ পরিবর্তনের জন্য পথে নেমেছিল। এখন রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজাতে হলে একটি জবাবদিহিতামূলক ও নৈতিক মানদণ্ড সম্পন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান। সভায় বক্তারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের একক আধিপত্য যেন পুনরায় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ম্লান না করে দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


