শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি হেফাজতে ইসলামের

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি হেফাজতে ইসলামের

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রবিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে মামলার তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তা আদালতে দাখিল না হওয়ায় এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু বর্তমানে জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় আমাদের পক্ষ থেকে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে পর্যালোচনা সম্পন্ন করে প্রসিকিউশনকে বিস্তারিত জানানো হবে। এরপরই সার্বিক বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে।

শাপলা চত্বরে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তদন্তে যেসব তথ্যাদি উঠে এসেছে, তা শুধুমাত্র সুনির্দিষ্টভাবে যাদের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তাদের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আমরা শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি যে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহ গুম করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার ফলে বহু শহীদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সুতরাং কেবল সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের জন্য যথেষ্ট নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ওই মহাসমাবেশটি ছিল একটি সর্বজনীন আন্দোলন। এতে শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘরানার কর্মীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই তদন্ত প্রতিবেদনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, খসড়া প্রতিবেদনটি অনেকাংশেই সেসব দাবির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে তারা প্রসিকিউশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে হেফাজতে ইসলাম শাপলা চত্বরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং তৎকালীন সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলীর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম নতুন করে গতি পেয়েছে। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালকে সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ