বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে হালনাগাদ ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জনে। গত ১৪ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন। একই সাথে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভেটিংয়ের (আইনি পরীক্ষা) জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ সব তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৪ মে ইসির হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। পরবর্তী দুই মাস ১৮ দিনে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রাপ্ত নতুন আবেদন ও মাঠপর্যায়ের প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ভোটার যুক্ত হলেন। ইসি সচিব জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতে এই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। সংবিধানে উল্লিখিত সার্বজনীন ভোটাধিকার নীতি অনুযায়ী যোগ্য নাগরিকদের তালিকায় স্থান দেওয়া এবং তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক কার্যক্রম।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক সূচি ও ভোটার তালিকার প্রয়োগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, বর্তমানে নির্ধারিত ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংকলিত তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা কিংবা কমিশনের সার্বিক সিদ্ধান্তে যদি নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী সময়ে নিবন্ধিত হওয়া নতুন ভোটারদের সম্পূরক তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট) হিসেবে যুক্ত করে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নির্বাচনী বয়সে উন্নীত হওয়া কোনো নাগরিক যাতে তাঁর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনি ও কাঠামোগত প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরে ইসি সচিবালয়। ইসি সচিব জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় খসড়া ভেটিংয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, প্রার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা আনা, অযাচিত নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচার-প্রচারণায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই বিদ্যমান আচরণবিধিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন সংশোধনের নথিটি এখনো প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক নিরীক্ষা শেষ হলে তা-ও শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সচিব।
আইন মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া আচরণ বিধিমালার আইনি ভেটিং সম্পন্ন হয়ে এলে পরবর্তীতে ইসি তা গেজেট আকারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে, যা নির্বাচন ঘোষণার সাথে সাথে প্রার্থী ও দলগুলোর জন্য বাধ্যবাধকতা হিসেবে কার্যকর হবে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারের সবকটি স্তরে যুগোপযোগী আচরণবিধি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা কমানো এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে সংকলন এবং প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তুত করার পর কমিশন থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে। দেশব্যাপী ভোটাধিকার সুসংহত করার এই উদ্যোগ সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


