ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় খামেনি সংকটপরিচালনার নির্দেশনা জারি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় খামেনি সংকটপরিচালনার নির্দেশনা জারি

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারমাণবিক কর্মসূচি কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। খবর অনুযায়ী, যদি তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে না চলে, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য হত্যার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার এবং জরুরি কমান্ড চেইনসহ একাধিক স্তরের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

গত মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলি লারিজানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের শীর্ষে বসিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি বিক্ষোভ দমন তদারকি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণবিক কূটনীতি পরিচালনা এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এছাড়াও সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষিতে যুদ্ধকালীন পরিকল্পনা দেখভাল করছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা তিনি নিহত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাঘাত না ঘটে, এজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তবু তিনি খামেনির বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচিত।

ইরান ইতিমধ্যে তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিতে সামরিক মহড়াও পরিচালনা করা হচ্ছে। খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, কোনো হামলার জবাব শক্তিশালীভাবে প্রদান করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। উত্তরাধিকার ও সংকটপরিচালনার জন্য প্রস্তুত পরিকল্পনা থাকা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে, তবে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ