জাতীয় ডেস্ক
মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে এ ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০১ কিলোমিটার নিচে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তুলনামূলক গভীরে হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের পাশাপাশি ভারতের পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও অনুভূত হয়। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য কম্পন টের পাওয়ার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মিয়ানমার ও তার আশপাশের অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় একটি এলাকায় অবস্থিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই সংঘটিত হয়। বিশেষ করে সাগাইং ফল্ট নামে পরিচিত সক্রিয় ভূ-গঠনরেখাটি মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত, যা ভূমিকম্প সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অংশ হওয়ায় প্রতিবেশী দেশে সংঘটিত মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও এ দেশে অনুভূত হয়ে থাকে। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অতীতে মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংঘটিত একাধিক ভূমিকম্প বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের গভীরতা যত বেশি হয়, তত বেশি এলাকায় কম্পন ছড়িয়ে পড়তে পারে, তবে পৃষ্ঠদেশে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১০১ কিলোমিটার গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় বিস্তৃত অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম ছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। অনেকেই ভবন থেকে সাময়িকভাবে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ, নিয়মিত মহড়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভূমিকম্পের তথ্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


