অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে **লিয়ান হুয়ান হু** নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এটি গত ১১ দিনের ব্যবধানে দেশের দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে ট্যাংকারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ডিজেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর আগে সোমবার ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে **শিউ চি** নামের আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। এই নতুন চালানের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে **এসপিটি থেমিস** আগামী ১২ মার্চ পৌঁছাবে। এছাড়া ১৩ মার্চ **র্যাফেলস সামুরাই** এবং ১৫ মার্চ **চাং হাং হং তু** নামের আরও দুটি ট্যাংকার বন্দরে আসবে, যার প্রতিটিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল রয়েছে। এভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যোগ হচ্ছে।
বিপিসি জানিয়েছে, নতুন আসা এই ডিজেল দিয়ে দেশের বর্তমান চাহিদার নিরিখে অন্তত ১২ দিনের ব্যবহার মেটানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মজুত নিশ্চিত করতে গত রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়েছে। এই সাশ্রয়ী সরবরাহ বজায় থাকলে বর্তমানে আসা ডিজেল দিয়ে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ফলে নতুন চালানের পর দেশের প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা **মাসুদ পারভেজ** বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রথম জাহাজ আগমনের পরপরই দ্রুত খালাস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় জাহাজের খালাস প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। পরবর্তী জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছালে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
বিপিসি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে বাজারে তৈরি হওয়া কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্ক প্রশমিত হবে। বন্দর ও বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।


