কুমিল্লায় ১,৪৫৮ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ

কুমিল্লায় ১,৪৫৮ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ

সারাদেশ ডেস্ক

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়েও কৃষকদের জন্য সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি ঋণ পুনর্বিন্যাস, ভর্তুকি প্রদান এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনা কার্যক্রম কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা সহজলভ্য করতে এবং সরকারি সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পেতে পারছেন, যা কৃষি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।

তিনি জানান, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দেশের একটি বড় অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। উন্নত জাতের বীজ, সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিখাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি সহায়তা কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লা জেলায় পর্যায়ক্রমে আরও কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কৃষকদের নিবন্ধন, তথ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ