জাতীয় ডেস্ক
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, শ্রম ও দেশপ্রেম বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ও সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়র কাউন্সিলর শিবলি আলম মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “যুক্তরাজ্য আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন না, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাদের এই ইতিবাচক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও তাদের অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে তারা দেশের জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন।
সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলর শিবলি আলম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীরা আগামীতে আরও অগ্রণী ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করবেন।
শিবলি আলম আরও জানান, বাংলাদেশের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের আইনি ও সামাজিক অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে তিনি ও তার পরিষদ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি পর্যায়ের এই আলোচনা প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


