লালমনিরহাটে ফুয়েল কার্ডের অমিল পাওয়ায় যুবককে ইউএনও’র চপেটাঘাত: জনমনে ক্ষোভ

লালমনিরহাটে ফুয়েল কার্ডের অমিল পাওয়ায় যুবককে ইউএনও’র চপেটাঘাত: জনমনে ক্ষোভ

সারাদেশ ডেস্ক

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবককে জনসমক্ষে চপেটাঘাত ও আটকের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাপ চন্দ্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি তার আত্মীয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক প্রদীপ কুমারের সহায়তা চান। প্রদীপ কুমারের নির্দেশে তার গ্যারেজ কর্মচারী নদী (১৮) ওই শিক্ষকের মোটরসাইকেল এবং ফুয়েল কার্ড নিয়ে লুবানা ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান যুবকের হাতের ফুয়েল কার্ডটি পরীক্ষা করেন। কার্ডে থাকা ছবির সঙ্গে যুবকের চেহারার মিল না থাকায় কোনো প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তিনি যুবককে চপেটাঘাত করেন এবং দায়িত্বরত পুলিশকে তাকে আটকের নির্দেশ দেন।

আহত ও লাঞ্ছিত যুবক নদী গণমাধ্যমকে জানান, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। অসুস্থ শিক্ষকের অনুরোধে ও মালিকের নির্দেশে তেল নিতে এসেছিলাম। ইউএনও মহোদয় কোনো কথা না শুনেই আমাকে থাপ্পড় মারেন এবং পুলিশ ভ্যানে তোলেন। আমি পেশায় একজন মেকানিক এবং দিনমজুর, বিনা অপরাধে আমাকে আঘাত করার বিচার চাই।”

ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের নথিপত্র ও ফুয়েল কার্ডের সত্যতা যাচাই করার পর পুলিশ ভ্যান থেকে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও অমানবিক আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বিনা বিচারে শারীরিক লাঞ্ছনা করা নাগরিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান শারীরিক লাঞ্ছনার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিতে আসা এবং জালিয়াতির আশঙ্কায় আমি কেবল তার গাড়ির চাবিটি নিয়েছিলাম। তাকে আঘাত করার অভিযোগটি সত্য নয়। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবিটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্র এবং উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ইউএনও’র দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া এবং প্রচলিত আইনের আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কারো তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ বা জরিমানা করার সুযোগ থাকলেও শারীরিক প্রহার সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ