জাতীয় ডেস্ক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দেশ গভীর সংকটে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি পুনরায় জেঁকে বসলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় বিচারক, আইনজীবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অদম্য সদিচ্ছার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার জনস্বার্থে দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও ঐক্য নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসে সমান গুরুত্ব বহন করে। তিনি মনে করেন, বিএনপি ‘জুলাই সনদ’-কে ধারণ করে এটিকে দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করে। এই ঐতিহাসিক পর্যায়গুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য।
বিচার বিভাগে শুদ্ধি অভিযান ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার কোনোভাবেই অনৈতিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত আইনজীবী বা বিচারক প্রত্যাশা করে না। দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি অর্থনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে উচ্চ আদালতের কোনো কোনো বিচারকের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির কারণে দেশ দীর্ঘ ১৭ বছর চরম সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে।
মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ওই সময়ে বিচারিক ব্যবস্থার অপব্যবহারের ফলে হাজার হাজার মানুষ ক্রসফায়ার এবং শত শত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে বিএনপির ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। বর্তমান সরকার এই বিচারহীনতা ও অন্যায়ের সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে বদ্ধপরিকর।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী আইনজীবীদের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, আইনি অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সুগম হবে।


