সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান: এক সপ্তাহে ডিএসইর মূলধন বাড়ল ১৯১৯ কোটি টাকা

সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান: এক সপ্তাহে ডিএসইর মূলধন বাড়ল ১৯১৯ কোটি টাকা

শেয়ার বাজার ডেস্ক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে বাজারটিতে সবকটি মূল্যসূচকের উত্থানের পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ১৯ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়ের চাপ সূচকের এই ধারাবাহিক উত্থানে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধনের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা কাটিয়ে বাজার এখন একটি স্থিতিশীল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

সূচকের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় ৪২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাছাইকৃত ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া শরীয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ২১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকটি সূচকের এই ইতিবাচক অবস্থান সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৪ হাজার ৫১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ২৪১ কোটি ৭ লাখ টাকা। দৈনিক গড় লেনদেনের হিসাবেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। শতাংশের হিসেবে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসই-৩০ সূচকটি তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।

অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৮৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ ছাড়া সিএসসিএক্স সূচক দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৯৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ১৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ১৫১টির কমেছে এবং ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইতে লেনদেন এবং সূচক উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়া বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারে তারল্য প্রবাহ বজায় থাকলে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পেলে পুঁজিবাজারের এই স্থিতিশীল ধারা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য কৌশলী বিনিয়োগ এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ