বৈশ্বিক বাজার মন্দার কারণে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি নয়: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

বৈশ্বিক বাজার মন্দার কারণে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি নয়: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বৈশ্বিক বাজারে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রপ্তানি কমছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় অবস্থিত চিত্তরঞ্জন কটন মিলের জায়গায় নবনির্মিত নিট শিল্পপল্লী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে চাহিদার যে অস্থিরতা চলছে, তার ঢেউ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও লেগেছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন সচল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও নিট খাতের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তার বড় একটি অংশ সরাসরি শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো স্থবিরতা না আসে।

ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সরকার এখন বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন আনতে চাইছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ‘ফুয়েল ইন্টেন্সিভ’ বা উচ্চ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পের পরিবর্তে কম জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাস ভাড়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জনভোগান্তি রোধে বাজার মনিটরিং এবং পরিবহন খাতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকে সরকার সজাগ রয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) শিল্প প্লট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিটিএমসির অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে শিল্পায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্লটে সফলভাবে শিল্প স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও দুটি প্লট হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে কিছু প্লটে স্থানীয় দখলদারিত্বের কারণে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে আশ্বাস দেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে এবং আইনি সমস্যার সমাধান করে সব কটি প্লটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান। এছাড়াও প্রকল্প পরিচালক (পিপিপি) কাজী ফিরোজ হোসেন, উপপ্রধান হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরের এক পর্যায়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নবনির্মিত টেক্সটাইল শিল্পপল্লীর ‘বর্ণালী কালেকশন লিমিটেড’ নামক একটি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এর উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তারা শিল্পপল্লীর অন্যান্য প্লটগুলোও ঘুরে দেখেন এবং সেখানে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দেশের ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল মিলগুলোর অব্যবহৃত জমি আধুনিক শিল্পপল্লীতে রূপান্তর করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ