লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ

লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ এবং দেশটির সমাজকল্যাণ উপমন্ত্রী প্রকৌশলী আলী এমহামেদ আল-নাধুরীর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে লিবিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা, কল্যাণ এবং আইনি সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা লিবিয়ার আইন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে (সুন্দুক্ব-দমান-ইজতিমায়ি) জমা দিচ্ছেন। তবে নির্দিষ্ট সময় শেষে বা প্রয়োজনে এই তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবাসীরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। রাষ্ট্রদূত এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে লিবিয়ার সমাজকল্যাণ উপমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, লিবিয়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশটির সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে তার মন্ত্রণালয় সচেষ্ট রয়েছে।

আলোচনার একপর্যায়ে উপমন্ত্রী এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে একটি কাঠামোগত রূপ দিতে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, একটি প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে পেনশন, চিকিৎসা সহায়তা এবং কর্মকালীন দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি নিশ্চয়তা পাবেন।

বৈঠকে কেবল শ্রমিক কল্যাণ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ প্রবীণদের কল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার রক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পারস্পরিক সফর এবং কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছান।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর দেশটির পুনর্গঠনে বিপুল সংখ্যক জনশক্তির প্রয়োজন হবে। এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক সুরক্ষা চুক্তির এই উদ্যোগ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এতে কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত হবে।

বৈঠকের সমাপ্তিতে লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তির খসড়া প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এই উদ্যোগ সফল হলে উত্তর আফ্রিকায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে লিবিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ