পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আজও বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকায় উপরের দিকে স্থান পেয়েছে ঢাকা। আজ রোববার সকালে ঢাকার বায়ুর মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের এমন ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, আজ ২৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১২২। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। শুষ্ক মৌসুম পেরিয়ে গেলেও ঢাকার বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে, যা নাগরিক জীবনের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার একিউআই স্কোর ছিল ২২৬। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর স্কোর ১৬৮। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই (১১৪) ও চীনের চেংদু (১১২)। শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য শহরগুলোর বাতাসের মান ৯৪ থেকে ২২৬-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রভাবে এই অঞ্চলের বাতাস ক্রমাগত দূষিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। মূলত এই পর্যায়ে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য মূলত অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটার নির্গমন এবং কঠিন বর্জ্য পোড়ানোকে দায়ী করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের একটি বড় সময় ধরে ঢাকা এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার এবং হাঁপানির মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ফুসফুসের গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা একটি প্রজন্মের শারীরিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বায়ুমান যখন অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকে, তখন সংবেদনশীল গোষ্ঠীর ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঘরের বাইরে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম কমানো এবং শিশুদের বাইরে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে শহরজুড়ে সবুজের বেষ্টনী বাড়ানো, জলাশয় রক্ষা করা এবং ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানোর মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদগণ।


