ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মান বুন্দেস লিগায় শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথমার্ধে তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছে বাভারিয়ানরা।
শনিবার মেইনজের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। তবে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি আগের ম্যাচের একাদশ থেকে আটটি পরিবর্তন আনায় মাঠের পারফরম্যান্সে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে বায়ার্ন ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বিপরীতে, মেইনজ তাদের আক্রমণাত্মক কৌশলে সফল হয়।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ডমিনিক কোহরের গোলে লিড নেয় স্বাগতিক মেইনজ। ২৯ মিনিটে পল নেবেল ব্যবধান দ্বিগুণ করলে চাপে পড়ে বায়ার্ন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে শেরাল্ডো বেকের জালের দেখা পেলে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বর্তমান লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি। প্রথমার্ধের এমন বিপর্যস্ত পারফরম্যান্স বায়ার্নের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
তবে বিরতির পর কৌশলী পরিবর্তন আনেন কোচ কোম্পানি। আক্রমণের ধার বাড়াতে মাঠে নামানো হয় দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও উইঙ্গার মাইকেল ওলিসেকে। এই পরিবর্তনের সুফল পেতে বায়ার্নকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫৩ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন গোল করে ব্যবধান ৩-১-এ নামিয়ে আনেন। এরপর ৭৩ মিনিটে মাইকেল ওলিসে এবং ৮১ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন ৩-৩ সমতায় ফেরে। বায়ার্নের নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণের মুখে মেইনজের রক্ষণভাগ চূড়ান্ত পর্যায়ে ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন হ্যারি কেইন। এটি চলতি বুন্দেস লিগা মৌসুমে ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডের ৩৩তম গোল, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পুরো ম্যাচে বায়ার্ন মোট ১১টি শট নেয় যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মেইনজ ২১টি শট নিলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণ সামলাতে ব্যর্থ হয়।
এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও ৪ ড্রয়ে বায়ার্ন মিউনিখের সংগ্রহ এখন ৮২ পয়েন্ট। লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে তারা বর্তমানে ১৮ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে, যদিও ডর্টমুন্ড এক ম্যাচ কম খেলেছে। অন্যদিকে, হারলেও ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশম স্থানে অবস্থান করছে মেইনজ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও বায়ার্নের এই ফিরে আসা তাদের মানসিক দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ। শিরোপা জয়ের আনুষ্ঠানিকতা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রক্ষণের চিড় এবং শুরুর দিকের অগোছালো ফুটবল নিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানিকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে নিয়মিত একাদশের অনুপস্থিতিতে দলের বিকল্প খেলোয়াড়দের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল। বাভারিয়ানদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে গাণিতিকভাবে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা।


