সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলনের ইন্তেকাল

সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলনের ইন্তেকাল

জাতীয় ডেস্ক

সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলন আর নেই। আজ সকালে রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারওয়ার, এক পুত্র সাবায়ের সারওয়ার এবং এক কন্যা তানজিয়া সারওয়ার অমিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে মানিকগঞ্জ জেলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গোলাম সারওয়ার মিলনের রাজনৈতিক জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে তার ছিল ব্যাপক প্রভাব ও জনপ্রিয়তা। ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গঠিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থেকে সংগঠনটিকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন সরকার আমলে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়। সংসদ সদস্য থাকাকালীন ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন। এছাড়া তিনি মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী ধাপে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেন। রাজনীতির মাঠে বিচক্ষণ এই ব্যক্তিত্ব সর্বশেষ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংসদীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মরহুমের জানাজা ও দাফন সম্পর্কে তার পুত্র সাবায়ের সারওয়ার জানান, আজ বাদ জোহর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ঢাকায় আনা হবে এবং দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, গোলাম সারওয়ার মিলনের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ সংগঠককে হারাল। বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে তার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মানিকগঞ্জের স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে গোলাম সারওয়ার মিলন মানিকগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হলো। আজ বিকেলের মধ্যেই তার মরদেহ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ