সারাদেশ ডেস্ক
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে ট্রাকচালক নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করছিল। ট্রাকটির গতিবিধি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী সেটির গতিরোধের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ট্রাকটির চালক ও সহকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন চালক হান্নান (৪৫), পরে তার মৃত্যু হয়। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হন ট্রাকের সহকারী নাঈম (২২) ও আল-আমিন (২৫)। নাঈমের বাড়ি সালথা উপজেলার সোনাখোলা এলাকায় এবং আল-আমিনের বাড়ি একই উপজেলার কাগদী এলাকায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি রসুলপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একাধিক পথচারীকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়। এর ফলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা ট্রাকটি থামিয়ে দেয়। স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনার আগে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত দুর্ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পথচারী আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়নি।
একপর্যায়ে ট্রাকটি বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকায় একটি দোকানে ধাক্কা দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। এর পরপরই জনতা ট্রাকটিতে ভাঙচুর চালায় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আহতদের অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তার আগেই স্থানীয়রা ট্রাকচালকসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রাকটি বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা, জনতার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা ও পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর সচেতনতা ও দ্রুত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।


