চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যু

চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যু

বিনোদন  ডেস্ক

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সার লিভার ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বাংলাদেশ থেকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ফুসফুসের জটিলতার জন্য জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করার সময় হঠাৎ তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তার শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি ঘটেনি।

পারিবারিক ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, কারিনা কায়সার বেশ কিছুদিন ধরে লিভার সংক্রান্ত গুরুতর জটিলতায় ভুগছিলেন। শুরুতে তিনি সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হন, তবে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি একই সঙ্গে ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন, যা পর্যায়ক্রমে তীব্র লিভার ফেইলিউরের (Acute Liver Failure) রূপ নেয়। বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে প্রথমে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

চেন্নাইয়ের হাসপাতালে স্থানান্তরের পর চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেন। একই সঙ্গে তার জীবন রক্ষার্থে জরুরি লিভার প্রতিস্থাপনের (Liver Transplant) প্রস্তুতিও চলছিল। তবে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াটি শুরু করার আগেই ফুসফুসের জটিলতা এবং রক্তচাপের আকস্মিক পতনের কারণে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস ভাইরাসের দ্বৈত সংক্রমণ এবং ফুসফুসের জটিলতা একসঙ্গে দেখা দিলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত ভেঙে পড়ে, যা এই ধরনের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি করে।

কারিনা কায়সার মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন সৃজনশীল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, সমসাময়িক সামাজিক বিষয় ও জীবনঘনিষ্ঠ নানা কনটেন্টের মাধ্যমে খুব দ্রুতই তিনি তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণের পর তিনি মূলধারার অভিনয় শিল্প এবং চিত্রনাট্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ওটিটি (Over-the-top) প্ল্যাটফর্ম এবং টেলিভিশন নাটকে তিনি একজন সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন। তার অভিনীত ও রচিত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে তুমুল আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং বিশেষ নাটক ‘৩৬ ২৪ ৩৬’। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি নাট্যমহল ও সাধারণ দর্শক—উভয় মহলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের সাংস্কৃতিক ও বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মী, সহশিল্পী, নাট্য নির্মাতা এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। দেশের নাট্য ও ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রতিভাবান তরুণীর মৃত্যুকে দেশের বিনোদন মাধ্যমের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চেন্নাই থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তার দাফন সম্পন্ন হবে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ