জাতীয় ডেস্ক
চলতি বছর পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ১৯৯টি ফ্লাইটে মোট ৭৭ হাজার ৪৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে এবারের প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৭২ হাজার ৯৬৮ জন। এয়ারলাইনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭৩টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২৮টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৩৯০ জন যাত্রী সৌদি আরব গমন করেছেন। এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাতে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিল।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজের কোটা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সরকারি কোটা ৪ Race ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি কোটা ছিল ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। মোট ৬৬০টি অনুমোদিত এজেন্সি এবারের হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে। কোটার তুলনায় সামান্য কিছু কম সংখ্যক যাত্রী এবার চূড়ান্তভাবে সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন, যা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। স্থানভেদে মক্কায় ১৪ জন এবং মদিনায় ৭ জন মারা গেছেন। অসুস্থ ও চিকিৎসাপ্রার্থী হজযাত্রীদের সহায়তায় সৌদি আরবের মেডিকেল টিম এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৪৪০ জনকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিগত সমস্যা ও দিকনির্দেশনার জন্য আইটি হেল্পডেস্ক ২০ হাজার ২৮৮ জন হজযাত্রীকে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছে।
আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হজ মিশন ও এয়ারলাইন্সগুলো ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।


