আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ এই বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে চলমান এই ভূরাজনৈতিক সংকটের খুব দ্রুতই সমাপ্তি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের বৈশ্বিক মূল্যায়নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত থেকে অর্জিত আর্থিক লাভ সংঘাতের ব্যয় বহুগুণ উসুল করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলায় আমাদের পদক্ষেপ বেশ সফল ছিল। সেখান থেকে আমরা এত বিপুল পরিমাণ তেল আহরণ করেছি, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের প্রায় ২৫ গুণ মিটিয়ে দিয়েছে।” তবে এই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বা বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রদান করেননি।
মার্কিন প্রশাসনের এই শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন এক সময়ে এই মন্তব্য এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং এর ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে। পেন্টাগনের কমপট্রোলার জেমস হার্স্ট এক সংসদীয় কমিটিতে জানান, সরঞ্জাম মেরামত, প্রতিস্থাপন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন রাখার কারণে এই ব্যয় আগের আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ বিলিয়নে পৌঁছেছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, সামরিক পর্যবেক্ষক ও মার্কিন বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের এই যুদ্ধব্যয়ের হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সমালোচকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র পুনঃস্থাপনের খরচ এই ২৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের মতো স্বাধীন গবেষণা সংস্থার অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধের সামগ্রিক আর্থিক বোঝা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (এক লক্ষ কোটি) ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চলমান তীব্র সমালোচনা ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলা করার একটি কৌশল। একদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যুদ্ধ বন্ধে আইনি চাপ সৃষ্টি করছেন, অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণের যে দাবি করা হচ্ছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।


