ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আগামীকাল মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান পরাশক্তি মিশর। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে আক্রমণভাগের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দলটিকে। গত ১৭ মে ক্লাব ফুটবলে করিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের কাফ মাসলে (পেশি) চোট পান এই ফরোয়ার্ড। চোট থাকা সত্ত্বেও অবশ্য তাকে রেখেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নেইমারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে বাকি ফুটবলারদের শতভাগ ফিটনেস। কোচ আনচেলত্তি আপাতত মিশর ম্যাচে নেইমারকে মাঠের বাইরে রেখেই তার রণকৌশল সাজাচ্ছেন। ম্যাচটিতে জয়-পরাজয়ের চেয়ে দলের গভীরতা ও স্কোয়াডের অন্য খেলোয়াড়দের পরখ করে নেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির নীতি-নির্ধারকরা। চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগে দলের বেঞ্চের শক্তি দেখে নিতে এই প্রীতি ম্যাচে স্কোয়াডের ২২ জন ফুটবলারকেই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ।
তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও দলে ফেরার সময়সীমা নিয়ে আশাবাদী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্পষ্ট এবং তিনি এককভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় দারুণ অগ্রগতি দেখাচ্ছেন। চলতি সপ্তাহ শেষে তার পায়ের একটি এমআরআই (MRI) স্ক্যান করা হবে। সেই মেডিকেল রিপোর্টের ফল ইতিবাচক এলে আগামী সপ্তাহ থেকেই দলের মূল অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন এই পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই যেন এই ফরোয়ার্ডকে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই মিশর ম্যাচে তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে না সেলেসাও ম্যানেজমেন্ট।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দল মোট ৬ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার প্রতিটিতেই জয়ের শেষ হাসি হেসেছে লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা। দুই দলের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল ২০১১ সালে, যেখানেও আধিপত্য বজায় রেখে জিতেছিল ব্রাজিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও মিশরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান মিশর দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা এই দলটির গতি ও শারীরিক সক্ষমতা বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য একটি আদর্শ পরীক্ষা হতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।


