অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সফল উদ্যোক্তা রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ ভারতের ডাটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মূলত ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দ্রুত ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগাতেই এই বিশাল অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারট্রাঙ্কের প্রধান নির্বাহী রবিন খুদা। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় এয়ারট্রাঙ্ক ভারতজুড়ে মোট ৫ গিগাওয়াট (জিডব্লিউ) ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার স্থাপন করবে।
বিনিয়োগের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডাটা সেন্টার নির্মিত হবে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। রাজ্যটির উপ-मुख्यमंत्री দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এয়ারট্রাঙ্ক ইতিমধ্যে মুম্বাইয়ের রায়গঞ্জে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বাকি ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার অবকাঠামো ভারতের অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলে ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হবে।
এই বিনিয়োগের কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রবিন খুদা জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত এমন একটি বৃহৎ বাজার যেখানে ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ব্যাপক। দেশটির জনসংখ্যা, দ্রুতগতির ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এই তিনের সমন্বয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতের ভিন্নধর্মী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গ্রাফকে কাজে লাগাতেই তাঁর প্রতিষ্ঠান এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন, এ ধরনের বিপুল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই প্রযুক্তির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, দেশীয় সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলকে চাঙ্গা করবে এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাউডনির্ভরতা বাড়ায় ডাটা স্টোরেজ বা তথ্য সংরক্ষণের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এয়ারট্রাঙ্কের ৫ গিগাওয়াটের এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে তা এশিয়ার বৃহত্তম ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গুলোর একটিতে পরিণত হবে, যা পুরো অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকায় জন্ম নেওয়া রবিন খুদা। ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং) বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি, যার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বর্তমানে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে এয়ারট্রাঙ্কের বিশাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ও কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে।


