পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: দম্পতি সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: দম্পতি সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনানুযায়ী, এই জরিমানার টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। আসামিরা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ব্যর্থ হলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ভিকটিমকে হত্যার আগে ধর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেনি, যা প্রমাণ করে সে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে অপরাধ স্বীকার করেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখেননি। উপরন্তু, অপরাধের পর তিনি তার স্বামীকে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। ফলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেন।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রথমে আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আনা হয়। রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ