জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্মমুখী ও দক্ষতানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্মমুখী ও দক্ষতানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় শিক্ষা ডেস্ক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু প্রথাগত ডিগ্রি প্রদানের গণ্ডি থেকে বের করে কর্মমুখী, প্রযুক্তিভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বৃহৎ এই উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ককে সেশনজটমুক্ত ও আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

রবিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের ৩০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর এই বৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্কের গুণগত পরিবর্তন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে ২ হাজার ২৮৫টি অধিভুক্ত কলেজের মাধ্যমে মফস্বল ও তৃণমূল পর্যায়ে যে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, তাকে বাস্তবমুখী করতে শিক্ষা কারিকুলামে আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি বছর স্নাতক পাস করা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

গৃহীত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট সেল গঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সংযোগ স্থাপন (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন), এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাষা শিক্ষার প্রসারে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি এবং পরিবেশ উন্নয়নে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্থবিরতা কাটানোর বিষয়ে জানানো হয়, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেশনজট দূরীকরণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোকে নিরাপদ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার সুফল শিক্ষার্থীরা দ্রুত পাবেন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নেতৃত্ব গুণাবলী তৈরির জন্য বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চা এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে রাষ্ট্র গঠনে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে, বাংলাদেশেও সেই ধারা ফিরিয়ে আনা হবে। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা। বিগত বছরগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণে এই লক্ষ্য ব্যাহত হলেও বর্তমান নির্বাচিত সরকার প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ অর্জনে নতুন রূপরেখা অনুযায়ী কাজ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই গুণগত রূপান্তর দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে এই রূপান্তরের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমেই এই কারিকুলাম তৃণমূল স্তরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের প্রথম একশত দিনের কার্যক্রমে শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ