ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

সারাদেশ ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হাসপাতালটিতে এই নির্দিষ্ট রোগে বা এর উপসর্গ নিয়ে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই অত্যন্ত জটিল শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে।

আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. ঝন্টু সরকার। তিনি জানান, সর্বশেষ মৃত শিশুটির বয়স ছয় বছর এবং সে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী এলাকার বাসিন্দা ছিল। গতকাল রোববার সকালে তাকে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তবে ভর্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশুটি কেবল হামের উপসর্গই নয়, বরং অপুষ্টিসহ আরও বেশ কিছু মারাত্মক ও জটিল সহ-অসুস্থতায় (কো-মর্বিডিটি) ভুগছিল, যা তার শারীরিক অবস্থাকে দ্রুত সংকটাপন্ন করে তোলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের স্থানীয় এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর এবং টাঙ্গাইল জেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির আইসোলেশন ইউনিটে সর্বমোট ১১২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী আসায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নার্স ও চিকিৎসকদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে সময়মতো শিশুদের হামের টিকা (এমআর ভ্যাকসিন) না দেওয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বিলম্ব করার কারণেই এই মৃত্যুর হার বাড়ছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে অনেক শিশু নিউমোনিয়া বা তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মৃত্যুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। একই সাথে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দিলে কোনো ধরনের ওঝা-বৈদ্য বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ