আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আজ মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আজ মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আজ মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচারিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে বজায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এটিই মস্কোয় দুই দেশের মধ্যকার প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

বৈঠকে মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গভীর মতবিনিময় করবেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন, যা দুই দেশের সংসদীয় ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন প্রধান ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গতিশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ নিয়মিতভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বজায় রয়েছে। রাশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার ও গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য রাশিয়ায় আমদানি করা হয়। এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খাতকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে বড় মাইলফলক হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প। বিবৃতিতে এই প্রকল্পটিকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও চলতি বছরের মধ্যেই উৎপাদনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মস্কোর দেওয়া তথ্যমতে, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যখন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হবে, তখন এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের ফেডারেল বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে রাশিয়ার অবদান আরও সুদৃঢ় হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নতুন সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের মস্কো সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাণিজ্য বৃদ্ধি, রূপপুর প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির আদানপ্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ