ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ও ফিলিপাইনে তীব্র কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ও ফিলিপাইনে তীব্র কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে দেশটির হরমুজগান ও কারমান প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫ মাত্রার এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। অন্যদিকে, এর আগের দিন সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার অতি তীব্র ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা গেছে।

ইরানের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সারগাজ এলাকার কাছাকাছি ভূগর্ভে। ভূমিকম্পের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। তবে ভূকম্পনের তীব্রতা মাঝারি থাকায় এবং উৎপত্তিস্থল লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যায়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনে সোমবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যখন ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়, তখন দেশটির বেশিরভাগ কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিল। হঠাৎ শুরু হওয়া এই প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রদেশের বহু বহুতল ভবন তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে যায়।

ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকশত মানুষ, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্ধারকারী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নিখোঁজদের সন্ধানে ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান এবং ফিলিপাইন—উভয় দেশই অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ইরান বেশ কয়েকটি প্রধান ভূ-তাত্ত্বিক ফাটল বা ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটির ইতিহাসে এর আগেও বহুবার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ফিলিপাইন পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও ভূ-কম্পন প্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে থাকায় সেখানে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমবার ফিলিপাইনে আঘাত হানা এই মাত্রার ভূমিকম্পের পর অঞ্চলটিতে আরও বেশ কিছু আফটারশক বা অনুকম্পন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া ভবনগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। দুই দেশের সরকারই উপদ্রুত এলাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ