আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আবারও ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। আজ শনিবার (২০ জুন) তিনি তেহরান পৌঁছান। সফরকালে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করবেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতা ও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ইসলামাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, এই সফর তারই একটি অংশ।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা হ্রাস এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পরোক্ষ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই তিনি ইরান সফর করেছিলেন। সেই সফরে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন। দফায় দফায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তেহরান সফর ইঙ্গিত করে যে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যকার আলোচনা একটি সংবেদনশীল ও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
যদিও বর্তমান সফরের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিস্তারিত এজেন্ডা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবরুদ্ধ অর্থনৈতিক তহবিল ছাড়ের মতো জটিল বিষয়গুলো এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেও বড় ভূমিকা রাখবে। পাকিস্তান এই অঞ্চলের একটি প্রধান পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিবেশী হওয়ায়, তাদের এই সফল মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।turn


