নির্বাচন ও রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দলকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মো. মনির হোসেনের সই করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশপ্রাপ্ত অন্য রাজনৈতিক দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং আমজনতার দল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪৪গগগ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ও বিবরণী নিরীক্ষা করে কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি সময়সীমার মধ্যে এই দলগুলো তাদের ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দলগুলোকে হিসাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়। গত ১৬ মার্চ কমিশন থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিবরণী দাখিলের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যেও দলগুলো হিসাব দিতে না পারায় গত ১৯ মে পুনরায় একটি সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করা হয় এবং ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৩ জুন। তবে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর পরও দলগুলো তাদের ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেনি।
ইসির পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আরপিও’র ৪৪গগগ (৫) অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে, কমিশন ১০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে সময় বৃদ্ধি করতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও বারবার সুযোগ দেওয়ার পরেও যারা চূড়ান্ত সময়সীমা লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নোটিশের পরও যদি দলগুলো তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা না দেয়, তবে আইন অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের মতো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। এই পরিস্থিতিতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়া হয়নি এবং কেন ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না—তার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর আয়ের উৎস এবং নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমক্ষে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরপিও-র এই বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আর্থিক জবাবদিহিতা ও আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। অন্যথায় আইনি জটিলতায় দলগুলোর নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


