জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি হাজিরা। গত শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬৮ হাজার ২৯৭ জন হাজি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনের সর্বশেষ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
খোঁজখবব নিয়ে জানা গেছে, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে এসেছেন ৬৩ হাজার ৮৩৮ জন। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, গত ৩০ মে থেকে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়। এই পরিবহন কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। বাকি হাজিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়।
হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তিনটি এয়ারলাইনস সমন্বিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সর্বোচ্চ ১০২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ৩১ হাজার ৯৮১ জন হাজি পরিবহন করেছে। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৬৩টি ফ্লাইটে ২৩ Monte ১৪৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৩টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৯৬৭ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। পাশাপাশি অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার ২০০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
হজ মিশন সূত্র জানায়, হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা ও আইটি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন মেডিক্যাল সেন্টার থেকে মোট ৬৭ হাজার ৮৬ জন বাংলাদেশি হাজিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৫ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অন্যদিকে, মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে ২৮ হাজার ৪০৫ জন হাজিকে হারিয়ে যাওয়া লগেজ পুনরুদ্ধার ও দিকনির্দেশনাসহ বিভিন্ন তথ্যগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হাজি ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩ জন এবং নারী ১২ জন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, ইন্তেকাল করা হাজিদের পবিত্র মক্কা ও মদিনায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।


