আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে। দেশটিতে চালানো মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়। আইআরজিসি এক সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে, পুনরায় কোনো আগ্রাসন চালানো হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।
এর আগে মার্কিন সামরিক সদর দফতর জানিয়েছিল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পেছনে সরাসরি তেহরানের ইন্ধন ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হওয়া হামলাকে একটি চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা নতুন করে তৈরি হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়, যার মাধ্যমে মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। তবে এই সমঝোতাটি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি ছিল না, বরং পরবর্তী স্থায়ী শান্তির আলোচনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সমঝোতার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে এই হামলা এবং তার জেরে দুই দেশের সামরিক সংঘাত আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের প্রভাব কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ সরবরাহ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালির এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক অস্থিরতা বা নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মহল বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।


