পাহাড়ি ঢলে থানচিতে আটকে পড়া ১০৮ পর্যটককে নিরাপদ উদ্ধার

পাহাড়ি ঢলে থানচিতে আটকে পড়া ১০৮ পর্যটককে নিরাপদ উদ্ধার

সারাদেশ ডেস্ক

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া ১০৮ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে প্রথম দফায় ৯০ জন এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর আরও ১৮ জনের একটি দলকে থানচি উপজেলা সদরে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধারকৃত পর্যটকদের সবাই বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ জুলাই) সকালে ১০ জন স্থানীয় গাইডের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের একটি দল থানচি সদর থেকে দুর্গম রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাত্রা শুরুর পর আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে পর্যটক বহনকারী নৌযানগুলো নদীর মাঝপথে আটকা পড়ে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকরা নাফাখুম জলপ্রপাতের নিকটবর্তী রেমাক্রি বাজার এলাকায় এবং সোমবার সন্ধ্যায় তিন্দুর শিলাগিরি রিসোর্টে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ায় সাঙ্গু নদীর পানির স্তর কমতে শুরু করে। এরপরই স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় গাইডদের সমন্বিত সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিকেলের মধ্যে মূল দলের ৯০ জনকে এবং সন্ধ্যার পর আমিয়াখুমে আটকে থাকা বাকি ১৮ জন পর্যটককে নিরাপদে থানচি সদরে নিয়ে আসা হয়।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় শিলাগিরি রিসোর্টে বিনামূল্যে আবাসন এবং সুলভ মূল্যে জরুরি খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ভৌগোলিক অবস্থান ও পাহাড়ি ঢলের তীব্রতার কারণে বর্ষা মৌসুমে বান্দরবানের নদী ও ঝরনা সংলগ্ন পর্যটন এলাকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্ষাকালে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক থাকা এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখা জরুরি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ