আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শারজাহ থেকে করাচি আসার পথে আরব সাগরে পাঁচজন আরোহীসহ পাকিস্তানের একটি কার্গো বিমান নিখোঁজ হয়েছে। করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বিমানটির সন্ধানে পাকিস্তান নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বেসামরিক সংস্থার সমন্বয়ে আরব সাগরে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান বিমান চলাচল সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানটি একটি বেসরকারি কার্গো সংস্থার পরিচালিত ২৭ বছরের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘টিএ১৭৩২’ ফ্লাইটটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় স্বাভাবিকভাবে উড়ছিল। তবে হঠাৎ যান্ত্রিক বা নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমানটি পথ পরিবর্তন করে ইউ-টার্ন নেয়। এর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এটি রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। আকস্মিক এই উচ্চতা হ্রাস এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা।
নিখোঁজ বিমান এবং এর ক্রুদের সন্ধানে পাকিস্তান তাদের সামরিক ও বেসামরিক সব শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। পাকিস্তান নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে তাদের দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’ ও ‘পিএনএস হুনাইন’ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি সাগরে তল্লাশির জন্য বিমানবাহিনীর বিশেষ সাব-নজরদারি বিমান এবং ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও এই অভিযানে যোগ দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও গভীর সমুদ্রের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ বা নিখোঁজ পাঁচ ক্রুর সন্ধান মেলেনি।
এই অঞ্চলের বিমান চলাচলের ইতিহাসে কার্গো বিমান দুর্ঘটনার নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১০ সালে করাচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই আটজন আরোহীসহ একটি রুশ কার্গো বিমান নিকটবর্তী আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। সুদানের খার্তুমগামী ওই বিমানটির আরোহীদের সবাই সে সময় নিহত হন এবং মাঠপর্যায়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বর্তমান ঘটনাটি ওই অঞ্চলের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুরোনো বিমান ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


