জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রকাশিত গেজেটের কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রকাশিত গেজেটের কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত আহত ও শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের অংশ হিসেবে নতুন করে জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ইতিপূর্বে প্রকাশিত গেজেটের কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছিল। পূর্বের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে আরও ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে জমা হওয়া এসব আবেদনের মধ্য থেকে ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা সংস্থায় পাঠানো হয়। দুই সংস্থার যৌথ তদন্ত শেষে ১ হাজার ৫৯০ জন আবেদনকারীর তথ্যের সত্যতা মিলেছে। সঠিক তথ্য পাওয়া এই ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ভুয়া প্রমাণিত হওয়া প্রায় ২০০টি আবেদনের পাশাপাশি অবশিষ্ট প্রায় ৬০০টি আবেদনের তথ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। এর মধ্যে এসবি ও পিবিআই-এর দেওয়া প্রতিবেদনে তথ্যের ভিন্নতা, একই ব্যক্তির একাধিকবার আবেদন এবং চিকিৎসার কোনো নির্ভরযোগ্য নথিপত্র না থাকার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি পূর্বের তালিকায় শহীদ হিসেবে নাম থাকা ব্যক্তির নামেও নতুন করে আহত হিসেবে আবেদন করার নজির মিলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ধারণা করছে, এই ৬০০টি আপত্তিকর আবেদনের মধ্য থেকে পুনরায় যাচাই সাপেক্ষে আরও প্রায় ১০০টি প্রকৃত আবেদন পাওয়া যেতে পারে।

যাচাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ১ হাজার ৫৯০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২১০ জনের যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি ক্যাটাগরিতে গেজেটভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০ জন। নতুন ১ হাজার ৫৯০ জন যুক্ত হলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে। এছাড়া সরকারি তালিকায় বর্তমানে ৮৪৩ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং আবাসন সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আহতদের আঘাতের গুরুত্ব ও শ্রেণিভেদে এককালীন আর্থিক সহায়তা, নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভাতা এবং পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল আর্থিক ও সামাজিক সুবিধার কারণে অপকৌশল অবলম্বন করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত আহতদের তালিকাভুক্ত করার এই প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এখনো নতুন আবেদন জমা পড়ছে। জেলা পর্যায় থেকে আসা এসব আবেদনও একইভাবে কঠোর তদন্তের মধ্য দিয়ে যাবে। কোনো অসত্য তথ্য দিয়ে কেউ যদি পূর্বে গেজেটভুক্ত হয়েও থাকে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তার নাম অনতিবিলম্বে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, প্রকৃত আহত ব্যক্তিরাই যেন রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি ও সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে আবেদনগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যাতে কোনোভাবেই গেজেটভুক্ত হতে না পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর কেবল প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদেরই গেজেটভুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে এই তালিকা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ