জাতীয় ডেস্ক
দেশের গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার লক্ষ্যে একটি বড়সড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অধীনে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সাথে নতুন গঠিত ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ জনপদে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চিকিৎসাসেবার পরিধি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের এই মহাপরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজিএইচএস) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ১৩টি উপজেলায় হাসপাতাল স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন এবং চিকিৎসা সেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির (পদ সৃজন) প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে ৫০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে স্থানীয় পর্যায়ে রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে জটিল বা গুরুতর রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়, যা দরিদ্র গ্রামীণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়েই এখন জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আমূল বদলে যাবে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক রোগ নির্ণয়কারী যন্ত্রপাতি এবং ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একই সাথে এটি দেশের সার্বিক সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।


