ময়নামতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী: সম্পন্ন হয়েছে জুলাই জাদুঘরের প্রস্তুতি

ময়নামতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী: সম্পন্ন হয়েছে জুলাই জাদুঘরের প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক

কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই জাদুঘর’-এর সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর জন্য একটি নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই জাদুঘরটি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলো পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জুলাই জাদুঘরের প্রশাসনিক ও পরিচালনা কমিটির কার্যক্রমে কিছুটা সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে নতুন করে শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির অনুমোদন ও জাদুঘর সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও এর পরিচালনা সংক্রান্ত বিস্তারিত রূপরেখা দেশবাসীকে জানানো হবে।

পরিদর্শনকালে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই দশকে দেশের শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থাসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় জনমতের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি এবং নির্বাচনের নামে এক ধরনের প্রহসন চালানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক ও বীমা খাতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলেছে।

মন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি এবং বেদখল হওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ময়নামতির মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সংস্কার ও সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক স্মারকসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন শালবন বিহারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর সংরক্ষণ কাজের খোঁজখবর নেন।

ঐতিহাসিক এই প্রত্নস্থল পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার। এ ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে ময়নামতি অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ