ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির আহ্বান মার্কিন প্রেসিডেন্টের, ব্যর্থতায় কঠোর সতর্কবার্তা

ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির আহ্বান মার্কিন প্রেসিডেন্টের, ব্যর্থতায় কঠোর সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে দেশটি চরম পরিণতির সম্মুখীন হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তানুযায়ী নতুন কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য নতুন চুক্তি করা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের অবশ্যই একটি চুক্তি করতে হবে। অন্যথায়, দেশটিতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন যে, সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উদ্দেশ্য করে বারবার একই সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের দরজা এখনো খোলা রয়েছে, তবে তার সময়সীমা সীমিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তার প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে রাজি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের (ইরান) উচিত চুক্তিতে আসা। তবে তারা শেষ পর্যন্ত তা করবে কি না, তা আমার জানা নেই।’

গত কয়েক বছর ধরেই ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা এবং ইরানের ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই নতুন সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নতুন কোনো সমঝোতায় বাধ্য করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে ইরানের নমনীয়তা যাচাই করছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘চাপ প্রয়োগের নীতি’র কাছে নতি স্বীকার করবে না।

বর্তমানে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি এখন তেহরানের প্রতিক্রিয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে কোনো তৃতীয় পক্ষ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় কি না বা সরাসরি আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষ বসে কি না, তা দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, চলমান এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল ইরান নয়, বরং সমগ্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ