জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত দুই-তিন দিনের মধ্যে: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত দুই-তিন দিনের মধ্যে: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

জাতীয় ডেস্ক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি আজ রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইনগত সহায়তা প্রদান অধ্যাদেশ সংশোধন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

আজ (মঙ্গলবার) আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা আসার প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। তবে, এ বিষয়ে তাঁরা নিজেদের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করেই বসে থাকিনি, বরং নিজেদের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার বিভিন্ন স্তরে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা করছে এবং সব দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের স্বার্থে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজকের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সাবেক জেলা জজ মোতাহার হোসেন, ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কনসালটেন্ট ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। তাঁরা সংশোধনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।

সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে সংস্থার কার্যপরিধি সম্প্রসারণ এবং আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যাবলী, আইনগত সহায়তা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, মহানগর কমিটি গঠন, বেসরকারি সংস্থার কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ এবং মধ্যস্থতাকারীদের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি দেশের আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা আরো উন্নত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাব দেশের আইনগত অবকাঠামোকে আরো কার্যকর এবং জনবান্ধব করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের জন্য আইনি সহায়তা সহজতর হবে, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় জনগণের জন্য। এই পরিবর্তনগুলি সরকারের আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং আইনি অধিকার নিশ্চিতকরণের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।

জাতীয়