ঢাকায় গভীর রাতে তিন বাসে অগ্নিকাণ্ড, কেউ হতাহত নয়

ঢাকায় গভীর রাতে তিন বাসে অগ্নিকাণ্ড, কেউ হতাহত নয়

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় সোমবার গভীর রাতে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত পৌনে ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা জনপথ মোড়ে এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে রায়েরবাগ এলাকায় রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে। এরপর রাত ২টা ৮ মিনিটে যাত্রাবাড়ীতে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে এবং ভোর ৪টার দিকে উত্তরা জনপথ মোড়ে একই পরিবহনের আরেকটি বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনটি বাসই তখন পার্কিং অবস্থায় ছিল এবং কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”

ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার ঘটনাবলির মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত কয়েক দিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারও শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। জুলাই মাসে সংঘটিত রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণার তারিখ ঘনিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

দলটির ঘোষিত কর্মসূচি চলাকালেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নাশকতা প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার রাতের ঘটনাগুলোর ব্যাপারে পুলিশ জানায়, আগুন লাগা তিনটি বাসই সড়কে চলাচল বন্ধ রেখে নির্জন স্থানে রাখা ছিল। প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তে কাছাকাছি স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে, এবং প্রতিটি স্থানে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হতে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে যতদিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হয়।

জাতীয়