সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত, এগারোতম গ্রেডে উন্নীতকরণের আশ্বাস

সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত, এগারোতম গ্রেডে উন্নীতকরণের আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক

দীর্ঘ তিন দিনের অবস্থান ও কর্মবিরতির পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাতে অর্থ বিভাগ ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা জানান, সরকার তাদের বেতনগ্রেড উন্নীতকরণের আশ্বাস দিয়েছে।

সহকারী শিক্ষক নেত্রী খায়রুন নাহার লিপি জানিয়েছেন, “দশম গ্রেড আমাদের মূল দাবি ছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এগারোতম গ্রেডকে যুক্তিযুক্ত বলে বিবেচনা করেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।” তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলোর বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ শিবলী সাদিক রাত সাড়ে আটটায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড ১১তমে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এ পাঠিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে কমিশনের বিবেচনাধীন।” বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দশম গ্রেড ও চাকরির ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিলে অর্থ বিভাগ তা পর্যালোচনা করবে। শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে শিক্ষক নেত্রী লিপির আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণার পরও শহীদ মিনারে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ‘প্রজ্ঞাপন’ জারির আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে রাত সোয়া নয়টার দিকে পুলিশ শহীদ মিনার থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সরিয়ে দেয়।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী শিক্ষক রাশেদ শাহরিয়ার আজিম জানান, “কেন্দ্রীয় নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন এবং পুলিশ শহীদ মিনার থেকে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। তবে অনেক শিক্ষক এখনো প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানাচ্ছেন, কারণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি নয়, প্রজ্ঞাপনই বাস্তব স্বীকৃতি।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন প্রদান, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সেদিন বিকেলে ‘কলম বিরতি কর্মসূচি’ শেষে শাহবাগের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে ফিরে এসে রোববার থেকে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। রাতে শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিত করে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার তৃতীয় দিনের মতো শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সোমবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বেতন স্কেল উন্নীতকরণ ও পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি। সরকারের সর্বশেষ আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও শিক্ষক সমাজ এখন প্রজ্ঞাপন জারি ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতীয়