আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার টরন্টো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর উপলক্ষে শহরজুড়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। আসর শুরু হতে কম সময় বাকি থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ কৌশল নির্ধারণ করেছে।
পুলিশের প্রকাশিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে স্টেডিয়াম এলাকা, ডাউনটাউন ফ্যান ফেস্টিভ্যাল জোন, নর্থ ইয়র্কের ডাউনসভিউ পার্ক এবং ইটোবিকোর সেঞ্চেনিয়াল পার্ক। এসব স্থানে দর্শকদের ব্যাপক সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে টরন্টো পুলিশের পাশাপাশি কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি), ডারহাম, ইয়র্ক, পিল এবং অন্টারিও প্রভিনশিয়াল পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবে। বহুমাত্রিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কুকুর ইউনিট, ঘোড়সওয়ার পুলিশ, মেরিন ইউনিট এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিট সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক দর্শকদের বড় উপস্থিতির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট টিকিটধারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশি দর্শনার্থী হতে পারেন। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের নজর এই আয়োজনে নিবদ্ধ থাকবে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সম্ভাব্য বিক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগাম পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক বন্ধ রাখা, যান চলাচলে পরিবর্তন আনা এবং বিকল্প রুট নির্ধারণের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো শহরে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কানাডা জাতীয় দলের উদ্বোধনী ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। বৃহৎ পরিসরের এই আয়োজন শহরের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে টরন্টো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শহরটি ইতোমধ্যে শিল্প, খাদ্যসংস্কৃতি ও বিনোদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে বৃহৎ আয়োজন সফল করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


