ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের লক্ষ্য

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের লক্ষ্য

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় ২০২৯ সালে নতুন ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আগামী মাসে আহ্বান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব তথ্য জানান।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ইউনিট স্থাপিত হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণের সুযোগ বাড়বে। এতে একক বা সীমিত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন বা আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের পেট্রোলিয়াম পরিশোধন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। এর মাধ্যমে দেশে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি, যেমন ডিজেল, পেট্রোল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা বজায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আমদানি-নির্ভর দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অনেক দেশই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুত বিদ্যমান রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং জুন মাসের সরবরাহ পরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত জানান, বর্তমানে রিফাইনারির দুটি ইউনিটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে পেট্রোল ও বিটুমিন উল্লেখযোগ্য। তিনি আরও জানান, চলতি মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা শোধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

পরিদর্শনকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ