অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছেছে মূল্যবান ধাতু সোনা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর রয়েছে। গত বুধবার বাজুস কর্তৃক সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকে বাজার এই নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে।
বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে সোনার দামের একটি বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার সংকট বা দাম বৃদ্ধির কারণেই মূলত এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
চলতি ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩২ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে ২৩ বার। দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালেও সোনার বাজারে অস্থিরতা ছিল চরম। ওই বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল বৃদ্ধির খবর এবং মাত্র ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল। এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সোনার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে রুপার মূল্য। এতে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম বেড়েছে এবং ১৫ বার কমেছে। উল্লেখ্য যে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে মাত্র ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত করার প্রবণতা এবং বিশ্ববাজারে ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারে। স্থানীয় বাজারে সোনার এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে গহনা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এই মূল্যবান ধাতু। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে গহনা কেনার আগ্রহ কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বর্ণ শিল্পের প্রসারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় বাজুস নিয়মিত বিরতিতে দাম সমন্বয় করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতার কারণে স্থানীয় দরে স্থিতিশীলতা আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের বাজারে সোনা ও রুপার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।


