তেজগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯, মাদক ও ট্রাক উদ্ধার

তেজগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯, মাদক ও ট্রাক উদ্ধার

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর আইন-শৃ্ঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বিভিন্ন অপরাধে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তেজগাঁও বিভাগের অধীনস্থ মোট ছয়টি থানা এলাকায় এই অভিযান বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ২০ জন, হাতিরঝিল থানা থেকে ১০ জন এবং আদাবর থানা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় যথাক্রমে ৬ জন ও ৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরাধমূলক সরঞ্জাম ও অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৫০০ প্যাকেট আর্ট কার্ড এবং অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত নগদ ৩ হাজার ৫২০ টাকা। এছাড়া সন্দেহভাজন ও অপরাধে ব্যবহৃত তিনটি পুরনো ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৬৯ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন সুজন হাওলাদার (৩০), মো. সুমন ব্যাপারী (৩০), রফিক (৬৫), মোতালেব (৩০), মো. ইউছুপ আলী (৩৬), মো. শওকত (৪৪), ইউসুফ আলী (২৭), সাঈদ ব্যাপারী (৩৯), মো. রাশেদুল ইসলাম (৩২), মো. সোহেল ফকির (৩২), মো. লিটন কাজী (৩৭) এবং মোসা. আছিয়া বেগম (৩০)। তালিকায় আরও রয়েছেন হাবিব ওরফে টাইগার হাবি (৩২), মো. তাকরিম রহমান মমিন (৪৫) ও ফারুক আলী ওরফে নুর উদ্দিনের (৩৮) মতো ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরে চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে রাজধানীর কিছু এলাকায় ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তেজগাঁও বিভাগ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে ডিএমপির সকল বিভাগকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা পুলিশের এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর ভূমিকার প্রত্যাশা করছেন।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ