ক্রীড়া ডেস্ক
ওয়ানডে সিরিজে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে নিবিড় অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন ক্রিকেটাররা। আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্কোয়াডে আনা হয়েছে নতুন মুখ। বিশেষ করে পেসার রিপন মন্ডল ও স্পিনার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের অন্তর্ভুক্তি দলের গভীরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তিনি দলের তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া এবং বিকল্প শক্তির (বেঞ্চ স্ট্রেন্থ) সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মুশতাক জানান, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আগে দলের প্রতিটি পজিশনে যোগ্য বিকল্প তৈরি রাখাই বর্তমান কোচিং প্যানেলের প্রধান লক্ষ্য।
নতুন ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মুশতাক বলেন, “টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে কয়েকজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য এটি তাদের জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই আমাদের বেঞ্চ যতটা সম্ভব শক্তিশালী হোক। নিয়মিত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিকল্প ক্রিকেটাররা প্রস্তুত থাকলে বড় টুর্নামেন্টে দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।” গত ম্যাচে তানভীর ইসলামের অংশগ্রহণ এবং রিশাদ হোসেনের বিশ্রাম প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে নেওয়ার প্রক্রিয়ারই অংশ।
দলের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে নিয়ে বিশেষ মূল্যায়ন তুলে ধরেন এই কিংবদন্তি কোচ। রিশাদের বোলিং বৈচিত্র্য ও গুগলি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মুশতাক বলেন, “রিশাদ ভালো করছে, তবে গুগলির ক্ষেত্রে তাকে আরও উন্নতি করতে হবে। আমি সবসময় একটি বিষয় গুরুত্ব দিই—মৌলিক বোলিং অ্যাকশন ঠিক রেখে ক্রিজের সঠিক ব্যবহার। লেগ স্পিনারদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি, কারণ অনেক সময় তারা কিছুটা খরুচে হয়ে পড়তে পারেন। আমরা ওর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি যাতে সে আরও নিখুঁত হয়ে উঠতে পারে।”
ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে জুটির গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন মুশতাক আহমেদ। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ব্যাটিংয়ে যেমন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি আমাদের বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেছে, বোলিংয়েও তেমন জুটিবদ্ধ আক্রমণ প্রয়োজন। মুস্তাফিজুর রহমান বা নাহিদ রানা পাঁচ উইকেট শিকার করলেও অন্য প্রান্ত থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ বা রিশাদ হোসেনদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে।”
পেশাদারিত্ব ও কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে তরুণদের সুযোগ দিয়ে বিশ্বকাপের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের প্রক্রিয়া এই সিরিজ থেকেই গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোচিং স্টাফদের এই রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের সমন্বয় মাঠে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


